Time Machine - the 4th Dimension
BD Trade Blogs
> Blogs > স্বাস্থ্য পরামর্শ > ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধ

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধ


সারাহ জেবীন

সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করার একমাত্র উপায়। নিয়মিত ও পরিমিত খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রম করলে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকা যায়।

চোখের সমস্যা, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনির সমস্যার মূলে যে ডায়াবেটিস থাকতে পারে এই ধারণা বেশিরভাগ মানুষের নেই। আর এই অজ্ঞানতার সুযোগ নিয়েই আরো দ্রুত থাবা বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস নিরাময়যোগ্য নয়। তবে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং সঠিক ওষুধের মাধ্যমে  আপনি এই রোগের লাগাম রাখতে পারবেন নিজের হাতেই। 

ডায়াবেটিস মূলত দুই ধরনের হয়। টাইপ ১ ও টাইপ ২ । টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে শৈশবেই। এক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিন তৈরির পরিমাণ কমে যায়। টাইপ ১ ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণগুলি হল, আক্রান্ত ব্যক্তির গলা শুকিয়ে যায় বার বার, ঘন ঘন প্রস্রাব পায়,  ওজন কমে যায় আর শরীর দুর্বল লাগে।

এছাড়াও তৃতীয় আরেক ধরণের ডায়াবেটিস দেখা যায়, সেটা হল গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিস। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়মিত মাপা তাই খুব জরুরী। সাধারণত সন্তান জন্মের পরে মা সুস্থ হয়ে যায়, তবে তারপরেও তার ঝুঁকি রয়ে যায় টাইপ ২ ডায়াবেটিসের।

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানের রক্তনালীতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে মাথা  থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত আক্রান্ত হয়। শুধু তাই নয়, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকাংশে  বেড়ে যায়, চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, আর নষ্ট হয়ে যেতে পারে আপনার কিডনিও।

একটু দ্রুত কিংবা জোরে হাঁটাহাঁটি ডায়াবেটিস থেকে আপনাকে দূরে রাখতে পারে। তবে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট করতে হবে। সম্ভব হলে আরও বেশীক্ষণ হাঁটাহাঁটিটা চালিয়ে নিতে হবে। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

প্রতিদিন একটু শারীরিক পরিশ্রম এর সাথে যদি থাকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তাহলে আরও ভাল। এ দুইয়ে মিলে ওজন বেড়ে মোটা হয়ে যাবার যে সমস্যা তা ঠেকাতে খুব সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়। আর যাদের ইতিমধ্যে ডায়াবেটিস হয়েই গিয়েছে তাদের রক্তের গ্লূকোজ নিয়ন্ত্রণেও এই দুটি নিয়ম খুব সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। ডায়াবেটিস কোনভাবেই হবেনা এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে উপরের সহজ নিয়মগুলি মেনে চললে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়।

তাই এখনই উচিত ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং তার ঝুঁকি কমানোর উপায়গুলো খেয়াল রাখা। 


বিবিধ >> স্বাস্থ্য পরামর্শ