Time Machine - the 4th Dimension
BD Trade Blogs
> Blogs > স্বাস্থ্য পরামর্শ > ক্যান্সার রোগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ক্যান্সার রোগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা


সারাহ জেবীন

চিকিৎসা চলাকালীন একজন ক্যান্সার রোগীর প্রতিদিনের পরিবর্তিত রুচির সাথে কি করে পুষ্টিকর খাবারের যোগান দেওয়া যায় মূলত তার প্রতি দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে । কিভাবে একজন ক্যান্সার রোগীর পরিবর্তিত রুচির সাথে তাল মিলিয়ে তার খাদ্য নির্বাচন করতে হয় বিষয়টিও এখানে আছে। অপরিসীম মমতা, ধৈর্য্য এবং আন্তরিক চেষ্টা রোগীর রুচি এবং পছন্দ অনুযায়ী নিত্য নতুন খাবার তার খাদ্য তালিকায় সংযোজন করা অত্যাবশক। তবে অবশ্যই খাবার টাটকা, প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হতে হবে। ক্যান্সারের সাথে সাংঘর্ষিক খাবার না দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করতে হবে, যা চিকিৎসক বলে দিবেন।

একথা সত্য যে ক্যান্সার রোগীর জন্য পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিভিন্ন রোগী বিভিন্ন ভাবে এই সমস্যায় ভুগতে পারে। কারো বেলায় স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের সামান্যই পরিবর্তন হয়, কারো বেলায় খাদ্য খাওয়া খুব কঠিন হয়। কারোরও বা আবার এই দুয়ের মাঝামাঝিতে থাকে। ক্যান্সারের ধরন এবং চিকিৎসা পদ্ধতির উপর খাদ্য গ্রহনের পরিবর্তন নির্ভর করে। পরিবর্তন যাই হোক সকলের লক্ষ্য একই, যথাসম্ভব পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া এবং শক্তিশালী থাকা।

আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পুষ্টিকর খাবার জরুরী, একজন ক্যান্সার রোগীর জন্য তা অধিকতর জরুরী। ক্যান্সার চিকিৎসা ও উপশমের প্রতিটি ধাপেই পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার শক্তিদায়ক ও আরামদায়ক হতে পারে। পুষ্টিকর খাবার-চিকিৎসাজনিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়, চিকিৎসা শেষে পূর্ণসুস্থতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

প্রকৃত অর্থে পুষ্টি বলতে আমরা বুঝব এমন একটি জৈবিক প্রক্রিয়াকে যার মাধ্যমে খাদ্য পরিপাক হয়ে তার নির্যাসটুকু রক্তে শোষিত হয়ে রক্ত প্রবাহের সাথে আমাদের দেহের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও শক্তি উৎপাদন করে থাকে। আর পুষ্টিকর বা স্বাস্থ্যকর খাবার বলতে বুঝায়, প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্য যেমন  মাছ, মাংস, ডিম। উদ্ভিজ্জ আমিষ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ডাল, বাদাম ইত্যাদি। স্নেহ জাতীয় খাবার তেল, ঘি, মাখন ইত্যাদি। শাক-সব্জী, ফল-মূল যাতে রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। এগুলো উপযুক্ত পরিমাণে গ্রহণ শরীরকে সুস্থ ও ওজন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

কখনো কখনো অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার একজন ক্যান্সার রোগীর জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ওজন বেড়ে বা কমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে খাবারের তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। কিছু খাবার উপাদান অনুযায়ী বেশি বা কম গ্রহণ করে শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে হবে যেন তা দেহের শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে

কোন একটি খাদ্য বা খাদ্য উপাদান এককভাবে বা সম্পূরক খাদ্য হিসাবে কোনো ভাবেই কার্যকর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে না। এটি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, সমন্বিত খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়ন্ত্রিত জীবন ব্যবস্থা রোগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।

প্রতিদিন স্বাস্থ্যস্মত খাবার গ্রহণ

  • যথাসম্ভব কর্মব্যস্ত থাকা ভালো। যে কোন কাজ বা একটু হাঁটাচলা ক্ষুধা বাড়াতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
  • টিনজাত/সংরক্ষিত খাবারের পরিবর্তে যথাসম্ভব টাটকা খাবার গ্রহণ।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নেয়া খুবই জরুরি।
  • জীবনের সব ধরনের মানসিক চাম কমানোর চেষ্টা করতে হবে।
  • অপারেশনের পর হালকা কাজ, নির্মল বাতাস, সূর্যালোক স্বাস্থ্য পুনরদ্ধারে এবং ক্ষুধা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকর।


বিকল্প খাবার ক্যান্সার নিরাময়ী নয়

আজকাল বিকল্প খাবার হিসেবে বিশেষ খাবার বা ডায়েট (যা ক্যান্সার নিরাময়ক হিসাবে বলা হয়ে থাকে) বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু এইসব বিকল্প খাবারে ক্যান্সারের নিরাময় হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। উপরন্ত এতে স্বাভাবিক / প্রাকৃতিক খাবার যেমনঃ মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, শাকসবজি, ফলমূল গ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয় বলে ক্যান্সার রোগী পর্যপ্ত ক্যালরী, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের অভাবে পড়ে যায়। এতে তার ওজনের ঘাটতি হতে পারে এবং পুষ্টিঘাটতিও দেখা দিতে পারে।

 

তরল খাবার অপরিহার্য

দেহের প্রতিটি কোষেই পানির চাহিদা পূরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্যান্সার চিকিৎসাকালে যখন শক্ত খাবার খেতে সমস্যা হয়ে, তখন অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি বা অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী। এতে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি ছাড়াও পানিশূন্যতা রোধ করে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেকের প্রতিনিয়ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বা তরল পানীয় পান করা উচিত যেমন: ডাব, ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি। বিশেষতঃ গরমে, ক্লান্তিতে, জ্বরে, বমি ও ডায়রিয়া হলে প্রচুর তরল পানীয় পান করা জরুরী। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ক্যান্সারের চিকিৎসা গ্রহণ অস্বম্ভ হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে বিছানার পাশে সব সময় পছন্দনীয় তরল পানীয় রাখা উচিত। রোগী একবার বেশি পরিমাণে পান করতে না পারলে একটু একটু করে ফলের রস শরবত স্ট্র দিয়ে সহজে পান করতে পারে।


চা, কফি বা সফট ড্রিংকসের পরিবর্তে পানি, দুধ, ফলের রস জাতীয় তরল পানীয় পান করুন। যদি পূর্ণ গ্লাস একবারে পান করা সম্ভব না হয় সারাদিনে এক ঢোক করে পান করুন।

যদি ওজন খুব বেশি কমতে থাকে, তাহলে খাবারের সময় পানি বা তরল খাবার সঙ্গে সঙ্গে না খেয়ে অল্প বিরতি দিয়ে পান করা উচিত। কারণ এতে পেট ভরে গেলে খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়। মনে রাখতে হবে যে, কিছু খাবার ও ফল মূল স্বাভাবিকভাবেই পানিপূর্ণ থাকে। যেমনঃ স্যূপ, ফিরনি, পায়েস, পুডিং, আইসক্রীম ইত্যাদি। ফলের মধ্যে আছে তরমুজ, বাঙ্গী, বেল, আম, জাম, লিচু, ডালিম, কাঁঠাল, পেপে, জাম্বুরা ইত্যাদি পানি। মূল জাতীয় খাবারে রয়েছে কেশর, গাজর, মূলা, ইত্যাদি। তাছাড়া বিভিন্ন শাক সজ্বির মধ্যে রয়েছে শশা, ক্ষীরা, শাপলা, লাউ, কুমড়া, ঝিঙ্গা ইত্যাদি।


বিবিধ >> স্বাস্থ্য পরামর্শ