Time Machine - the 4th Dimension
BD Trade Blogs
> Blogs > কবিতা > এক বিকেলে রুদ্র ও নন্দিতা

এক বিকেলে রুদ্র ও নন্দিতা


অসীম তরফদার

ঃ     আজ তোমার কি হল রুদ্র-
এমন উদাস আর মন মরা হয়ে আছো যে!
বাসায় একগাদা মিথ্যে বলে, দুঃসহ যানজট ঠেলে
এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এখানে ছুটে এলাম;
সামনে বহমান নদী, 
ঢেউয়ের জলে অস্তগামী সূর্যের রক্তিম কিরণ
নদীর বুক চিরে দূর হতে ছুটে আসা শীতল হাওয়ার পরশ;
কোথায় দুটো রোমান্টিক কথা বলবে তা নয়
তুমি শুধু ...

ঃ  ভেবেই যাচ্ছি, কি করে তোমার রূপের বর্ণনা করা যায়
আর তোমার পাশে কেমন বেমানান মনে হয় আমাকে!

ঃ  ফাজলামো হচ্ছে, না?
তোমাকে বেমানান নয়, মাঝে মধ্যে বরং নিজেকেই
অসম মনে হয় তোমার সামনে।
সত্যি আজ তোমার কত খ্যাতি চারিদিকে,
পেশা মর্যাদা আর ব্যক্তিত্বের দিক থেকে 
তুমি ছাপিয়ে যাও আমায়।
তুমি হয়তো সর্বোত্তম নও তবে সুপুরুষ,
হয়তো বিত্ত বৈভবের দিক থেকে অতটা বড় নও তুমি
কিন্তু তোমার হৃদয়টা ভালোবাসার এক বিশাল সমুদ্র-
যেখানে সারাজীবন আমি সাঁতার কেটে গেলেও
ছুঁতে পারব না তার শেষ সীমানা।

ঃ  নন্দিতা, এটা কিন্তু তোমার বাড়িয়ে বলা অথবা
তোমার মহত্ত্ব আর উদার চিত্তের কারণেই
এমন ভাবে ভাবো তুমি; আর পেশা খ্যাতি মর্যাদা -
এতো তোমারই প্রেরণার ফসল।
গ্রামের এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম আমার
শরীরে আজও কাদামাটির গন্ধ;
জীবন ও জীবিকার টানে গ্রাম ছেড়ে এসেছি শহরে,
কর্মচঞ্চল অথচ প্রাণহীন এই নগরীর 
অলি-গলি-রাজপথে একে একে হোঁচট খেয়ে
বাস্তবতার তীব্র কষাঘাতে আমি যখন
অনেকটাই হতাশ এবং বিধ্বস্ত প্রায়
তখনই তুমি এলে কাণ্ডারী হয়ে!
হতাশার অন্ধকারে জ্বেলে দিলে প্রেরণার মশাল
বেদনা-সিক্ত হৃদয়ে দিলে মমতার শীতল পরশ
দিলে নতুন করে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার দীক্ষা
এক আহত যোদ্ধাকে।
শুধু তোমারই শক্তিতে ভর করে আমি
দাঁড়িয়েছি আবার মেরুদণ্ড সোজা করে,
ক্লান্তিহীন হেঁটে গেছি গন্তব্যের দিকে অবিরাম।
তোমার সান্নিধ্য আর ভালোবাসা না পেলে
হয়ত আর আমার দাঁড়ানোই হত না কোনদিন।

ঃ  না, রুদ্র, তুমি তোমার নিজের যোগ্যতা দিয়েই
দাঁড়িয়েছো, আজ তোমার যা কিছু অর্জন, যা কিছু প্রাপ্তি
তার সবটাই তোমার প্রাপ্য ছিল।
আমাদের প্রথম দেখার মূহুর্তে
তোমার বুদ্ধি দীপ্ত চোখের দিকে তাকিয়ে আমি
ঠিক বুঝেছিলাম, তুমি জয় করবার ক্ষমতা রাখো অজেয়কে।
তাই নিশ্চিত নির্ভরতায় আমি তুলে দিয়েছি তোমার হাতে
আমার সমস্ত ভালো-মন্দের ভার
আমার স্বপ্ন, আশা-আকাক্সক্ষা, আমার ভবিষ্যৎ।
হৃদয় নিংড়ে সবটুকু মমতা আর ভালোবাসা
শুধু তোমাকেই দিয়েছি উজাড় করে;
এখনও যা কিছু আছে, আছে যেটুকু সঞ্চয়
তার সর্বস্ব তোমাকে সঁপে দিয়ে
তোমার বুকেই সাজাব ভালোবাসার পালঙ্ক আমার।

ঃ  আমায় তুমি ধন্য করেছো নন্দিতা,
প্রথম যেদিন তোমার স্নেহসিক্ত হাত দুটো
আমার মাথায় বুলিয়েছিলে, সেই দিন সেই মূহুর্তেই
তার বিনিময়ে আমি তোমার কাছে সমর্পিত করেছি
আমার হৃৎপিণ্ড এবং নিজেকে।

এসো নন্দিতা, হাত রাখো এ হাতে
আমার চোখের তারায় তোমার দৃষ্টি কর স্থির
চলো, নদীতে ভাসাই ভেলা
নরম হাওয়ায় পাল তুলে দিয়ে, মেলে দিয়ে ডানা
চলো, চলে যাই তেপান্তরের স্বপ্নলোকের দেশে
কাশফুলে ঘর সাজাই মধুর 
 


সাহিত্য >> কবিতা